11:43 AM বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ আর্জেন্টিনার  |  ইতালির মিলানে বক্সিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে পদক নিশ্চিত করলেন বিজেন্দ্র সিংহ  |  অবসর ভেঙে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলার ইচ্ছে প্রকাশ সৌরভের, ফিরতে চান ৪ দিনের ম্যাচে, স্বাগত জানালেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  |  বৈদিক ভিলেজের টাকায় দুবছরেই কোটিপতি গফফর, জেরায় প্রকাশ চাঞ্চল্যকর তথ্য  |  প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও শুল্ক দফতরের ছাড়পত্র পেয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ল সংযুক্ত আরবআমিরশাহির অস্ত্রবাহী বিমান  |  সিঙ্গুরের জমি কিনতে রাজি রেল, ৪০০ একর কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে বাকি অংশ হবে কোচ কারখানা, স্টার আনন্দে জানালেন মমতা   |  জোর করে জমি কেড়ে নেয়া নয়, রেলেরও উচিত জমি কিনে প্রকল্প গড়া, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  |  মহালয়ার দিনই দুরন্ত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন, সেবক-গ্যাংটক রেল প্রকল্পে অনুমোদন হাজার কোটিরও বেশি  |  
 
 
 পুরনো
    8/3/2008


Suman De
বেজিং ব্লাস্ট


 

       বিস্ফোরণের নাম অলিম্পিক৷ অভিঘাতে কাঁপছে গোটা চিন৷ চিনে গিয়ে দেখলেন সুমন দে৷

 

      সিরিয়াল ব্লাস্ট৷ শহরের মাঝখানে৷ পরপর দু’বার৷ সাড়ে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে৷ দুটি বিস্ফোরণস্থলের দূরত্ব দেড় কিলোমিটার৷ মৃত দুই৷ আহত চোদ্দ৷ সূত্রের খোঁজ দিলে পুরস্কার নগদ চোদ্দ হাজার মার্কিন ডলার৷

      বেঙ্গালুরু নয়৷ আমদাবাদও নয়৷ চিনের কুনমিং-এ৷

      কারণ? ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র’, বলছে সরকারি সংবাদমাধ্যম৷ উদ্দ্যেশ্য? ‘অলিম্পিকের উদ্যোগকে চ্যালেঞ্জ’, শব্দবন্ধের সৌজন্য সেই সরকারি কাগজ ও টিভি চ্যানেল৷ বেসরকারি মত? জানার উপায় নেই৷ আজকের চিনে উন্নয়ন আছে, পুঁজিবাদও আছে, গণতন্ত্র নেই৷

      চিনে নির্জীব-আলুনি সরকারি সংবাদমাধ্যমের বাধ্যবাধকতা ছাড়া বেসরকারি সংবাদমাধ্যম নেই৷ তা বলে পেশাদার সাংবাদিক হয়েও সেই দেশে থেকেও বিস্ফোরণস্থলে যাব না, তাও আবার হয় নাকি? গাইড ম্যাগিকে বললাম কুনমিং-এ নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে৷ কেন যাব শুনে বুদ্ধিদীপ্ত মুখটি মুহূর্তে চিনে পার্চমেন্টের মতো সাদা৷ একটু সামলে নিয়ে চোখের ইশারায় দেখাল এনিকে৷ ডাকসাইটে চিনা সুন্দরী এনি কলকাতা থেকেই আমাদের ছায়াসঙ্গী৷ দশ দিনে মাত্র সাড়ে সাত বার গালে টোল ফেলে হেসেছে, কথা বলেছে আরও কম৷ ‘সরকারি টিকটিকি’ ভাবতে খারাপ লাগে, কিন্তু প্রতিটি শহরেই তাকে হোটেলে ঠিক আমার সামনের বা পাশের ঘর নিতে দেখে সেই সন্দেহই দৃঢ় হয়৷ হ্যান্ডব্যাগে হিন্দি পত্রিকার কোণ স্পষ্ট উঁকি মারছে, অথচ জিজ্ঞেস করতেই অম্লান বদনে বলল, ‘‘চিনা আর ইংরেজি ছাড়া পৃথিবীর আর কোনও ভাষা চোখেই দেখিনি’’!

03olympic.JPG

      সেই এনি৷ কুনমিং-এ ফেরার অনুরোধ শুনে প্রথমে না শোনার ভান করল, তারপর কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে মুখের দিকে চেয়ে থাকল৷ তৃতীয়বার, অনুরোধ ধমকে বদলানোর পর ভাবলেশহীন মুখে ‘টুডে নো ফ্লাইট ফ্রম ডা লি’ বলে গাড়ির জানলার বাইরে অন্তত ওর একশ বার দেখা কুইয়ান ঝুং প্যাগোডার চূড়ার দিকে একদৃষ্টে ততক্ষণ তাকিয়ে রইল যতক্ষণ না আমি পুরোপুরি নিরুদ্যম হয়ে পড়ি৷

      সে যাত্রায় বিস্ফোরণের ঠিক দেড় দিন পর আমরা যখন ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং-এ ফিরলাম, তখন প্রথম বিস্ফোরণস্থল ৫৪ নং বাস স্ট্যান্ড আর দ্বিতীয় বিস্ফোরণস্থল ক্যামেলিয়া হোটেল চত্বর— দুটি জায়গাই বাড়াবাড়ি রকমের সাফসুতরো৷ স্পষ্টতই চরম প্রশাসনিক তত্পরতায় সন্ত্রাসের চিহ্নটুকুও সযত্নে মুছে দিয়েছে গণপ্রজাতান্ত্রিক চিন সরকার৷

      কিন্তু বিস্ফোরণটা হয়েই গিয়েছে গোটা চিন জুড়ে৷

      উত্সাহের বিস্ফোরণ, এনার্জির বিস্ফোরণ, প্রস্তুতিরও বিস্ফোরণ৷

      প্রস্তুতি? কতটা নিবিড়, কতটা বিজ্ঞানভিত্তিক প্রস্তুতি? এক কথায় উত্তর হবে, ‘প্রোজেক্ট ১১৯’৷ সে কী বস্তু? পশ্চিমী দেশগুলো (পড়ুন আমেরিকা) যে খেলাগুলোতে শাসন করে, সেই সাঁতার, সেইলিং, ক্যানোয়িং বা অ্যাথলেটিকসে তাদের আধিপত্য কেড়ে নিতে গত চার বছর ধরে সেই খেলাগুলোকেই টার্গেট করেছে চিন৷ খেলাগুলোর মোট স্বর্নপদকের সংখ্যা ১১৯৷ অতএব বেজিং অলিম্পিকে পাখির চোখ—‘প্রোজেক্ট ১১৯’৷ অংশগ্রহণের আনন্দ-টানন্দ নয়, ‘বেজিং ২০০৮’ চিনা জেদ আর জাত্যাভিমানের প্রদর্শনীও৷

      জাত্যাভিমান৷ তারও চেহারা আছে৷ ঠিক যেমন করে সিপিএম সোমনাথ চট্টেপাধ্যায়কে মিরজাফর বলছে, চিনা জাত্যাভিমানীরা কাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দিচ্ছে জানেন? ১৯৯২ অলিম্পিকে মহিলা টেবিল টেনিস ডাবলসে রূপোজয়ী এক চিনা অ্যাথলিটকে৷ ৩৯ বছরের গাও জুন৷ বেইজিং অলিম্পিকেও আছেন জুন৷ তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে৷ আসলে, ১৯৯৪-তে লাসভেগাসের এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে চিন ছাড়েন জুন৷ ২০০২-এ সেই স্বামীকে ছাড়েন বটে জুন, কিন্তু আরও আঁকড়ে ধরেন তাঁর টেবিল টেনিস কেরিয়ার৷ তাই এবার মার্কিন সম্ভাব্য পদকজয়ীর তালিকায় উপরের দিকে আছেন তিনি৷ আর সেই কারণেই বেইজিং-এর সবথেকে অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড ইউ জিয়াচুং-এর ভাষায় জুন হলেন ‘ট্রেটর’৷

      জুন যদি ‘ট্রেটর’ হন, তবে এই মুহূর্তে ভিলেন একজনই— বেজিং-এর আবহাওয়া৷ এমনিতেই শহরকে ধোঁয়াশামুক্ত করতে তেত্রিশ লক্ষ গাড়িকে স্রেফ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু আবহাওয়াবিদদের হুঁশিয়ারি— অলিম্পিক উদ্বোধনের দিন বৃষ্টি নামার সম্ভাবনা প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ! এই প্রাকৃতিক বিপর্য়য় রুখতে চিনারা যে উপায় ঠাওরেছেন তা কিন্তু ‘জুতা আবিষ্কার’-এর থেকেও চিত্তাকর্ষক৷ বত্রিশ হাজার আবহাওয়া-বিজ্ঞানীর একটি টিমকে যুদ্ধকালীন তত্পরতায় বেজিং-এ পাঠানো হয়েছে, যাঁরা বৃষ্টি এড়াতে একটি মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন৷ কী সেই প্রযুক্তি? উনত্রিশটি কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে জল ভরা মেঘের দিকে বিশেষ শেল ছুঁড়ে ধূলিকণাকে তাঁরা জলীয়বাষ্প থেকে আলাদা করে দেবেন, যাতে অন্তত ৮ আগস্ট বেইজিং শহরের উপর বৃষ্টি না নামে৷ খোদার উপর খোদকারির রাজসূয় যজ্ঞ আর কী!

      রাজসূয় যজ্ঞ চিনের ৬৩৯ জনের অলিম্পিকমুখী দলকে নিয়েও৷ কতটা শৃঙ্খলার মধ্যে চলে চিনা অলিম্পিক প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ, তা বুঝলাম কুনমিং ন্যাশনাল সুইমিং স্টেডিয়ামে সাঁতারের গোটা জাতীয় দলটির শেষ মুহূর্তের অনুশীলন দেখতে এসে৷ দলের নেতা হু পেং-কে প্রশ্ন করেছিলাম, শেষ কবে তারা সাংবাদিকদের (পড়ুন, সরকারি সাংবাদিকদের) মুখোমুখি হয়েছেন৷ উত্তর এল, ‘জীবনে এই প্রথম’! চিনের জাতীয় কায়াক দলের সদ্য নির্বাসিত কোচ জোসেফ কাপুসেক বললেন, “সাংবাদিক কী বলছেন, ছ’বছর বয়সের পর থেকে ওদের মা-বাবার সঙ্গেই বিশেষ দেখা করতে দেওয়া হয় না৷ চিনে মিলিটারি শাসনের মতো শৃঙ্খলায় চলে জাতীয় অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণ৷” খেলোয়াড়দের অধিকার? চিনে অন্তত ভুলে যান৷

      আসলে ‘বেজিং ২০০৮’ চিনের কাছে অন্তত খেলার আসর নয়৷ সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ‘পূর্ব বনাম পশ্চিম’ লড়াই-এর সবচেয়ে বড় মঞ্চ৷ ঠাণ্ডা লড়াইয়ের পর থেকে অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন পদক তালিকায় আট বার পিছনে ফেলেছিল আমেরিকাকে৷ আর এবার সেই জুতোতেই পা গলাতে প্রস্তুত চিন৷ যেন গ্লোবাল সুপারপাওয়ার কে, চিন না আমেরিকা, তা এই ষোল দিনের ইভেন্টেই ঠিক হয়ে যাবে৷ তাই ষাট বা সত্তরের দশকে তাইওয়ানের অন্তর্ভূক্তির ইস্যুতে চিনের ‘অলিম্পিক বয়কট’-এর রাজনীতি এখন সত্যিই ক্লোজড চ্যাপ্টার৷ গত কুড়ি বছরে একশরও বেশি সোনা এসে গিয়েছে চিনের ড্রাগন জামার পকেটে৷ এবার লক্ষ্য এথেন্স অলিম্পিককে টপকানো, যেখানে বত্রিশটি সোনা ছিনিয়ে পদক তালিকায় আমেরিকার ঠিক পিছনে দু’নম্বরে ছিল চিন৷ এই অশনি সঙ্কেতটা কিন্তু স্পষ্ট পৌঁছেছে বুশ সাহেবের আপন দেশে৷ তাই আমেরিকার অলিম্পিক কমিটির হেড অব স্পোর্টস পারফরম্যান্স স্টিভ রাউসও প্রমাদ গুনছেন, “১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার চিন যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে চিনের খেলাধুলোর অগ্রগতির অঙ্ক কষতে বসলে আমাদের রাতের ঘুম নষ্ট হবে”৷ তবে আসল কথাটা আমাদের কাছে ফাঁস করে দিলেন বেজিং স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির স্পোর্টস সাইকোলজির অধ্যাপক মাও ঝি ঝিয়ং৷ মাও বললেন, “একমাত্র পদক তালিকায় এগিয়ে থাকলেই সব প্রচারকে মিথ্যে প্রমাণ করে বাকি পৃথিবাকে বোঝানো যাবে চিনে উন্নয়ন হচ্ছে, মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হচ্ছে, দেশ এগোচ্ছে৷ তাই এটা খেলার লড়াই নয়, দেশের লড়াই”৷

      অতএব সাধু (পড়ুন, বুশ) সাবধান৷ চিনের অর্থনীতির সূচক এই মুহূর্তে আর জিডিপি নয়, বেজিং অলিম্পিক ২০০৮৷

      চিনে বিস্ফোরণটাও আসলে জনসংখ্যার নয়, সন্ত্রাসেরও নয়, বিস্ফোরণটা আসলে পদকজয়ের প্রতিজ্ঞার৷   


 



 মন্তব্য

soham  8/7/2008
good
Subrata Chakraborty  8/5/2008
চিনে কেন গণতন্ত্র নেই বলতে পরেন?
Sandip Mondal  8/4/2008
star ananda aamar khub priyo chanel.
 
1

 মন্তব্য পাঠিয়ে দিন
নাম  
ই-মেল    
এখানে লিখুন    
 
  বাংলায় সংখ্যা লেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
   
            ফিরে যান       
 
 
© 2007 STAR Group Limited. সর্ব সত্ব সংরক্ষিত অভিযোগ জানান | গ্রুপ প্রোফাইল | অনুষ্ঠানের বিবরণ | কেরিয়ার | আনন্দে বিজ্ঞাপন | আমাদের সম্পর্কে