12:29 PM বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ আর্জেন্টিনার  |  ইতালির মিলানে বক্সিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে জিতে পদক নিশ্চিত করলেন বিজেন্দ্র সিংহ  |  অবসর ভেঙে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলার ইচ্ছে প্রকাশ সৌরভের, ফিরতে চান ৪ দিনের ম্যাচে, স্বাগত জানালেন নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  |  বৈদিক ভিলেজের টাকায় দুবছরেই কোটিপতি গফফর, জেরায় প্রকাশ চাঞ্চল্যকর তথ্য  |  প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও শুল্ক দফতরের ছাড়পত্র পেয়ে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উড়ল সংযুক্ত আরবআমিরশাহির অস্ত্রবাহী বিমান  |  সিঙ্গুরের জমি কিনতে রাজি রেল, ৪০০ একর কৃষকদের ফিরিয়ে দিয়ে বাকি অংশ হবে কোচ কারখানা, স্টার আনন্দে জানালেন মমতা   |  জোর করে জমি কেড়ে নেয়া নয়, রেলেরও উচিত জমি কিনে প্রকল্প গড়া, জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  |  মহালয়ার দিনই দুরন্ত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন, সেবক-গ্যাংটক রেল প্রকল্পে অনুমোদন হাজার কোটিরও বেশি  |  
 
 
 পুরনো
    5/1/2008


Dwaipayan Majumder
শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘের ১১১ বছর


 

ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির এক জীবন্ত রূপ৷ রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের আঁতুড়ঘর৷ রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয়৷ স্বামীজি প্রতিষ্ঠিত বেলুড় মঠকে ঘিরে উত্সাহের অন্ত নেই৷ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পুণ্যভূমিতে আসেন৷ কেউ আসেন ঠাকুরের টানে, কেউ আবার পুণ্যার্জনের লোভে, কাউকে কাউকে আবার বেলুড় মঠ টানে তার স্বর্গীয় পরিবেশের জন্য৷ কিন্তু কী ভাবে সম্ভব হল এই বিশ্বশান্তির পরম আশ্রয়স্থলের রচনা? রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠা এবং তার পরিচালনার ইতিহাস সকলের কাছেই কৌতূহলের বিষয়৷ আজকের বেলুঠ মঠ দেখে শুরুর দিনের কথা ভাবলে মনে হবে এ-ও যেন ম্যাজিক৷

বেলুঠ মঠ প্রতিষ্ঠার বেশ কয়েক বছর আগেই সঙ্ঘজীবনের রূপরেখা তৈরি করেন স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ৷ দ্বিতীয় বার পাশ্চাত্য ভ্রমণের পর দেশে ফিরে তিনি বাগবাজারে বলরাম বসুর বাড়িতে কয়েক দিন ছিলেন৷ আর এই সময় স্বামীজি অনুভব করেন সঙ্ঘ ছাড়া কোনও বড় কাজ সম্ভব নয়৷ বলরাম বসুর বাড়িই এখন বলরাম মন্দিরে পরিণত হয়েছে৷ এখানেই তৈরি হয় ভবিষ্যতের বিশ্বব্যাপী বিশাল কর্মকাণ্ডের রূপরেখা৷ সেবাব্রতের দৃঢ় সংকল্প৷

বলরাম মন্দিরের দোতলায় রয়েছে সেই হলঘর৷ এখানেই ১৮৯৭ সালের পয়লা মে স্বামীজি কলকাতার সেই সময়কার মান্যগণ্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন৷ আর এখানেই তিনি সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব রাখেন৷ শ্রীরামকৃষ্ণের নামে একটি সঙ্ঘ স্থাপনের প্রস্তাব দেন৷ উপস্থিত সকলেই সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেন৷ রামকৃষ্ণ অ্যাসোসিয়েশন প্রথম সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করেন স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ৷ প্রচার সমিতির কলকাতা শাখা কেন্দ্রের সভাপতি ও সহ সভাপতি  পদে নির্বাচিত হন স্বামী ব্রহ্মানন্দ ও স্বামী যোগানন্দ৷ সম্পাদক হন অ্যাটর্নি নরেন্দ্রনাথ মিত্র৷ দু’জন সহ সম্পাদকের পদে নির্বাচিত হন শশিভূষণ ঘোষ ও শরত্চন্দ্র সরকার৷ বলরাম মন্দিরেই ৫ মে মিশনের নিয়ম-কানুন বিধিবদ্ধ হয়৷

শুরু হল রামকৃষ্ণ মিশনের যাত্রা৷ কিন্তু কোথায় হবে মঠ? কী ভাবে পরিচালিত হবে সেখানকার জীবন? এ সব প্রশ্ন স্বামীজি এবং তাঁর গুরুভাইদের মনে হলেও তাঁদের সংকল্পকে টলাতে পারেনি৷ কাশীপুরে একটি ভাড়া করা বাগানবাড়িকে লক্ষ্য করেই বিবেকানন্দ বলেছিলেন “আমাদের প্রথম মঠ”৷ মতিঝিলের উল্টো দিকে কাশীপুর রোডের উপরই ছিল শ্রীশ্রী ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এই বাড়িটি৷ কিন্তু রামকৃষ্ণের পার্থিব শরীর পঞ্চভূতে লীন হওয়ার পর শুরু হয় রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের যাত্রা৷ প্রথম মঠ প্রতিষ্ঠিত হয় বরাহনগরে৷ একটি পোড়ো ভুতুড়ে বাড়িতে কয়েক জন দুঃসাহসী আর্দশবাদী যুবক এমন এক জীবনধারার সূচনা করেছিলেন, যা রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের এক ক্ল্যাসিক অধ্যায়৷ ১৮৮৬ সালের ১৯ অক্টোবর বরাহনগরের এই বাড়িটিতেই শুরু হয় মঠের জীবন৷ প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর এখানেই ছিল মঠ৷ ১৮৯২-এর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে এখান থেকে মঠ স্থানান্তরিত হয় আলমবাজারে৷ এখানে মঠ প্রায় ৬ বছর ছিল৷ এই সময় মঠ বিকাশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়বৃত্ত৷ এখানেই মঠ জীবনের গতিমুখ স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল৷

১৮৯৭-এর জুলাই মাসের প্রথম দিকে বেলুড় গ্রামে মঠ স্থাপনের জন্য জমির সন্ধান পাওয়া যায়৷ কিন্তু স্বামীজি প্রথমে বেলুড়ের চেয়ে কাশীপুরের কেষ্টগোপালের বাগানবাড়িকেই মঠের উপযুক্ত স্থান হিসাবে নির্বাচিত করেন৷ কিন্তু বেলুড়ে জমির জন্য প্রয়োজনীয় ৩৯ হাজার টাকা হেনরিয়েটা মুলার দান করতে রাজি হন৷ ছোট দুটো বাড়ি সমেত ২২ বিঘা জমি কিনে নেওয়া হল পটনানিবাসী ভাগবত্ নারায়ণ সিংহের কাছ থেকে৷ সে দিনটি ছিল ১৮৯৮-এর ৪ মার্চ৷ অসমতল জমিকে সমান করার জন্য এবং উপযুক্ত ঘরবাড়ি তৈরির জন্য বেলুড়ের জমির ঠিক পাশে ৪৮, লাহাবাবু সায়র রোডে অবস্থিত নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে মঠ স্থানান্তরিত করা হয়৷ আলমবাজার থেকে নীলাম্বরবাবুর বাড়িতে এসে স্বামীজি খুব খুশি হয়েছিলেন৷ নীলাম্বরবাবুর বাগানবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রীশ্রী মা ও স্বামীজির স্মৃতি৷ এই বাড়ি মঠের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷ এই বাড়িরই একটি অংশে স্বামীজি ভগিনী নিবেদিতাকে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত করেছিলেন৷

BELUR.jpg

ভবিষ্যত মঠের পরিকল্পনা আর সাধন-ভজন নিয়ে এখানে মেতে থাকতেন স্বামীজি৷ এই বাড়িতে থাকাকালীনই তিনি লিখেছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের আরাত্রিক ভজন ‘খন্ডন ভব বন্ধন’ এবং আরাত্রিক স্তব ‘ওঁ হ্রীং ঋতং ত্ব ম চলো’৷ নীলাম্বরবাবুর বাগানে থাকাকালীন মঠ জীবন হয়ে উঠেছিল কর্মমুখর৷ নতুন কেনা জমিতে স্থায়ী মঠ গড়ে তোলার ব্যাপক প্রস্তুতি আরম্ভ হয়৷

বেলুড় গ্রামের জমিটি যেন মঠের জন্য কুটোবাঁধা ছিল৷ শ্রী মায়ের মুখের কথা, তিনি নাকি বরাবরই দেখতেন ঠাকুর যেন মঠের জমিতে বাস করছেন৷ পরে মঠের জমি কেনার কাজ শেষ হলে তিনি বলেন, ঠাকুরের ইচ্ছেতেই ওই জমিটি হল৷ তিনিই মঠের জন্য ওই জায়গাটি নির্বাচন করেছিলেন৷ পরবর্তীকালে বেলুড়ের মাহাত্ম্য নিয়ে মা বলেছেন, যাঁর জন্য কাশী যাওয়া, তিনি দক্ষিণেশ্বর ও বেলুড়ে আছেন৷ শুধু কী তাই! শ্রীশ্রী ঠাকুরের পার্থিব শরীরত্যাগের বেশ কয়েক বছর পর বেলুড়ে স্থায়ী মঠ স্থাপন হলেও, ওই জমির একটি অংশ শ্রীরামকৃষ্ণের পাদস্পর্শধন্য৷ মঠের জমির একটি অংশে সেই সময় নেপালের রাজার কাঠের গোলা ছিল৷ নেপালের রাজার প্রতিনিধি ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণের স্নেহধন্য বিশ্বনাথ উপাধ্যায়৷ তাঁর ডাকেই সাড়া দিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ একদিন ওই গোলায় এসেছিলেন৷ ঘটনার ঘনঘটায় একটা কথাই মনে হয়, দৈব নির্ধারিত স্থানেই তৈরি হয়েছিল বেলুড় মঠ৷

১৮৯৮-এর ২৭ ফেব্রুয়ারি রবিবার শ্রীশ্রী ঠাকুরের জন্ম মহোত্সবের দিন স্বামীজি ঠাকুরের পূতাস্থি কাঁধে করে নিয়ে এসে নতুন জমিতে স্থাপন করেন এবং নিজেই শ্রীশ্রী ঠাকুরের পুজো করেন৷ পুজো শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে বলেছিলেন, “আজ থেকে এই মঠে তাঁকে এনে বসালাম৷ তিনিই আমাদের চালাবেন৷” ঠাকুর তাঁর জীবদ্দশাতেও শ্রীমুখে বলেছিলেন যে, “নরেন আমাকে কাঁধে করে যেখানে নিয়ে গিয়ে রাখবে আমি সেখানেই থাকব৷”

বেলুড়ের প্রতিটি জিনিস তৈরি হয়েছে একেবারে পরিকল্পনা করে৷ মঠের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে ছিল একটি মাঝারি ও একটি ছোট্ট একতলা বাড়ি৷ এই জমির পূর্বসীমা বরাবর বয়ে চলেছে গঙ্গা৷ এখানেই ছিল মঠের আদি অবস্থান৷ পুরনো বাড়ির দোতলায় ছিল ঠাকুরের পুরনো মন্দির৷ ১৮৯৮-এর ৯ ডিসেম্বর আত্মারামের কৌটা নতুন ঠাকুর বাড়িতে এনে শ্রীশ্রী ঠাকুরের ষোড়শোপচারে পুজো ও হোম করা হয়েছিল৷ এখনও এই মন্দিরটি ভক্তদের কাছে আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র৷
 
বেলুড় মঠের মুখ্য আকর্ষণ শ্রীরামকৃষ্ণের মন্দির৷ স্বামীজীর জীবদ্দশায় মন্দিরটি তৈরি না হলেও স্বামীজীই মূল মন্দিরের নকশা করে গিয়েছিলেন৷ তাঁর চিন্তাভাবনা ও অনুমোদিত মন্দিরের নকশা সম্মুখে রেখেই গড়ে উঠেছে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির৷ ১৯৩৮-এ প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির ধর্ম, সংস্কৃতি ও শিল্প সমন্বয়ের এক অপূর্ব স্থাপত্য৷ পৃথিবীর সব জাতির সব ধর্মের মানুষের কথা মাথায় রেখেই এই মন্দিরের নকশা করেন স্বামীজি৷ বেলুড় মঠ কালে হয়ে উঠবে মানবের মহামিলনের তীর্থস্থল— স্বামীজীর এই স্বপ্ন সার্থক হয়েছে৷ পুরনো মন্দির থেকে আত্মারামের কৌটা ১৯৩৮-এর ১৪ জানুয়ারি স্বামী বিজ্ঞানানন্দ শ্রীরামকৃষ্ণ-মন্দিরের বেদিতে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ স্থাপত্যকলার এই অপূর্ব নিদর্শনকে চোখের সামনে দেখলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয়৷ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ সর্বধর্মসমন্বয়ের এমন নিদর্শন গোটা পৃথিবী খুঁজলেও মেলা দুষ্কর৷

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের যাত্রাপথ নানা বাঁক ঘুরে পৌঁছেছে আজকের বিশাল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রভূমিতে৷ একশো বছরের মধ্যে রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের প্রায় ১৯৯টি ছোট-বড় কেন্দ্র ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বে৷ বৌদ্ধিক, নৈতিক এবং আধ্যাত্মিক সমস্ত স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে রামকৃষ্ণের ভাবধারা৷ মহাপ্রস্থানের দু’দিন আগে স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ ভাবান্দোলনের কেন্দ্রভূমি বেলুড় মঠ সম্বন্ধে বলেছিলেন, আগামী পনেরশো বছর জগতকে আধ্যাত্মিকতার পথ দেখাবে বেলুড় মঠ৷ পরবর্তী কালে এটি হয়ে উঠবে সেবা ও সংস্কৃতির এক পীঠস্থান৷ আর এটা কোনও কল্পকথা নয়, তিনি স্বচক্ষে দেখে গিয়েছিলেন বেলুড়ের ভবিষ্যত্৷ তাঁর ভবিষ্যতবাণী যে একেবারে নির্ভুল, তা আজ প্রমাণিত৷ ১১১ বছরে পা দিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ সঙ্ঘ আজ সেবাব্রতের তেজে উজ্জ্বল৷ বিশ্বশান্তির অন্যতম পথপ্রদর্শক৷            



 মন্তব্য

subirsrimani  5/5/2008
বলার অবকাশ নেই বেশ ভালো লাগলো
abhikraj  5/2/2008
<P>its the beginning</P>
 
1

 মন্তব্য পাঠিয়ে দিন
নাম  
ই-মেল    
এখানে লিখুন    
 
  বাংলায় সংখ্যা লেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন
   
            ফিরে যান       
 
 
© 2007 STAR Group Limited. সর্ব সত্ব সংরক্ষিত অভিযোগ জানান | গ্রুপ প্রোফাইল | অনুষ্ঠানের বিবরণ | কেরিয়ার | আনন্দে বিজ্ঞাপন | আমাদের সম্পর্কে